Baaghi 4 movie review:টাইগার শ্রফের এই সিনেমা আসলে প্রায় তিন ঘণ্টার অ্যাকশন নাকি এক্সপেরিমেন্ট? তা বোঝা একেবারেই কঠিন। এখানে গল্প বোঝার বা কোনো বিষয়ে আশা রাখার কোনো সুযোগই নেই।
সিনেমাটিতে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে টাইগার শ্রফের মহাকর্ষকে উল্টে দেওয়া অ্যাকশন, যেখানে কোনো লড়াই বা অ্যাকশনের বাস্তব কোনো কারণ ছিল না। ঠিক তেমনই, সিনেমার চরিত্রগুলোও যেগুলো প্রথমদিকে মনে হতে পারে তারা বাস্তবে আছে কিন্তু তারা আসলে শুধু নায়কের কল্পনায়ই টিকে আছে।
এখানে রনি (টাইগার) একটি দুর্ঘটনার পর কোমায় চলে যায়। আর নায়কের ভাই তাকে বোঝায় যে সে আসলে হ্যালুসিনেশন করছে—যা কিছু সে ভেবেছে, তার কোনো বাস্তব অস্তিত্ব নেই।
বোঝানো হয়েছে যে রনি যে মেয়েটির জন্য শোক করছে, আসলে সে তার কল্পনায়ই আছে, বাস্তবে নেই। সিনেমা দেখলে মনে হতে পারে যে অর্ধেক স্ক্রিপ্ট যেন কোনো হ্যালুসিনেশনের মধ্যে আটকে আছে, যেখানে কাউকে জাগানো হয়নি।
এরপর প্রবেশ করে বলিউড সিনেমার পরিচিত ট্রোপ—যে চরিত্র খুব দ্রুত মারা যায়। সেই চরিত্র টিতে কাজ করেছেন হারনাজ সাঁধু, যিনি বাগি ৪-এ আলিশা চরিত্রে ছিলেন, আর একজন পার্শ্ববর্তী নায়িকা ছিলেন যিনি অভিনয় করেছেন সোনম বাজওয়া। বাজওয়া এখানে শুধুই নায়কের রাগ-ক্ষোভ এবং প্রতিশোধের গল্প এগিয়ে দেওয়ার জন্য ছিলেন।
সিনেমায় আলিশা এবং রনি একটি নিখুঁত জুটি, যতক্ষণ না গল্প হঠাৎ অন্যদিকে মোড় নেয়। তখন দেখা যায় আলিশা মারা গেছে এবং তার জন্য একটি কবর তৈরি করা হয়েছে, যা রনি দেখেও পরে বুঝতে পারে যে আসলে তা নেই। দর্শকরা প্রথমে যে যন্ত্রণার অনুভূতি অনুভব করেছিল, তার কোনো মূল্যই নেই—কারণ সবকিছু ছিল রনির মাথার ভেতরের কল্পনা।
কাহিনী এগোতে থাকে, এবং এরপর রনির ভাই মারা যায়—সাথে শেষ হয় শ্রেয়াস তালপাড়ের চরিত্র। অন্যদিকে টাইগার শ্রফের অভিনয় চলে যায় এমন এক জায়গায়, যেখানে তিনি অ্যাকশনকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মতো চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি ১৪টি ছবির পুরনো অভিনেতা, তারপরও প্রতিটি লাফ, প্রতিটি স্লো-মোশন ঘুষি দেখে মনে হয় যেন কোরিওগ্রাফারকে একটাই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল—‘এটা আরও লম্বা করো, আরও জোরে করো,যাতে দর্শকের মনে একটাই প্রশ্ন জাগে—এই লড়াই আসলে কি নিয়ে তৈরি করা হয়েছে
বাগি ৪-এর অ্যাকশন একেবারেই অর্থহীন, এবং এই নিয়ে আলোচনা করাটাও বৃথা। গল্প এগোনোর কথা তো দূরের কথা, শেষ পর্যন্ত দর্শক হাল ছেড়ে দেয় বুঝতে গিয়ে যে কে কার সঙ্গে লড়ছে এবং কেন লড়ছে।