Dhurandhar : করাচির মাফিয়া–অন্ধকারে ভারতীয় এজেন্টের গোপন মিশন! রণবীর সিংয়ের সবচেয়ে তীব্র থ্রিলার কি এটাই?
‘Dhurandhar’ বাস্তব ইতিহাসের তিনটি ভয়ংকর সন্ত্রাসী ঘটনার উপর ভিত্তি করে নির্মিত—আইসি-৮১৪ হাইজ্যাক, সংসদ হামলা এবং ২৬/১১ মুম্বাই আক্রমণ। এই ঘটনাগুলোর পটভূমিতে সাজানো হয়েছে ভারতের ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো প্রধান অজয় সান্যালের নেতৃত্বে এক সুপার-গোপন অভিযানের গল্প। পরিচালক আদিত্য ধর বাস্তব তথ্যকে ফিকশনের সঙ্গে এমনভাবে মিশিয়েছেন যে পুরো সিনেমাটাই এক নতুন, বিস্ফোরক অ্যাকশনে ভরা অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে
রহস্যে মোড়া হামজা – রণবীর সিংয়ের বিস্ফোরক ও নিয়ন্ত্রিত অভিনয়
হামজা চরিত্রটি রণবীরের ক্যারিয়ারের অন্যতম গভীর ভূমিকা। একজন ছদ্মবেশী ভারতীয় এজেন্ট হিসেবে তিনি করাচির সবচেয়ে ভয়ংকর মাফিয়া নেটওয়ার্কে প্রবেশ করেন নিজের পরিচয় লুকিয়ে। তার লম্বা চুল, গ্রাঞ্জি দাড়ি, অদৃশ্য যন্ত্রণায় ভরা দৃষ্টি—সব মিলিয়ে চরিত্রটিতে এক অদ্ভুত রহস্য তৈরি করে। এই ছবিতে রণবীর আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সংযত, কিন্তু একই সঙ্গে ভেতর থেকে জ্বলতে থাকা আগুনের মতো শক্তিশালী
করাচির ল্যারিয়া গ্যাংওয়ারের নরকসম দুনিয়ায় গোপনে অনুপ্রবেশ
Dhurandhar সিনেমার সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলো হামজার করাচির ল্যারিয়া গ্যাংওয়ারের গভীরে ঢুকে পড়া। গ্যাংগুলোর অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ, মাদক ব্যবসা, অস্ত্রের চোরাচালান, সন্ত্রাসী ফান্ডিং—সবকিছুতেই ধীরে ধীরে নিজেকে মিশিয়ে দেন তিনি। এ এক ভয়ংকর জগত, যেখানে প্রতিটি ভুল মানে নিশ্চিত মৃত্যু। এই দুনিয়াকে ধ্বংস করতে হামজা ভেতর থেকে প্রভাব খাটানোর পথ বেছে নেয়, যা গল্পকে আরও বেশি উত্তেজনাপূর্ণ ও বিপজ্জনক করে তোলে
এই সিনেমা কেবল স্পাই থ্রিলার নয়—এটি এক পাকিস্তানি আন্ডারওয়ার্ল্ড সাগা
যদিও সিনেমাটি RAW বনাম ISI ধরনের স্পাই থ্রিলার হিসেবে মার্কেটিং করা হয়েছে, বাস্তবে এটি বেশি গডফাদার স্টাইলের আন্ডারওয়ার্ল্ড কাহিনি। পাকিস্তানের করাচির অপরাধ জগতের শক্তির লড়াই, গ্যাংগুলোর রাজনৈতিক সংযোগ এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর প্রভাব—এই সবকিছু সিনেমার মূল কেন্দ্রবিন্দু। পরিচালক স্পষ্টভাবেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এই গল্পটি ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে একটি ট্রিলজি সিরিজে পরিণত হতে পারে
৩ ঘণ্টা ৩০ মিনিট—তবুও গল্পে কোনো ঢিলে ভাব নেই
সিনেমার দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা, যা সাধারণ দর্শকের কাছে দীর্ঘ মনে হতে পারে। কিন্তু ‘Dhurandhar’ অধ্যায়ভিত্তিক গল্প বলার স্টাইলে নির্মিত হওয়ায় কখনোই বিরক্ত লাগার সময় আসে না। প্রতিটি অধ্যায় এক একটি নতুন দুনিয়া তৈরি করে এবং দর্শককে গভীরভাবে টেনে নিয়ে যায় করাচির অপরাধী নেটওয়ার্কের ভিতরের স্তরে। পরিচালক আদিত্য ধর অত্যন্ত টাইট ন্যারেশন ব্যবহার করেছেন, যেখানে প্রতিটি দৃশ্য গুরুত্বপূর্ণ
এই সিনেমার আরেকটি শক্তিশালী দিক হলো এর ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর। ৭০–৮০ দশকের বাপ্পি লাহিরীর ক্লাসিক সুরগুলোকে আধুনিক সিন্থ ও বিটের সঙ্গে মিশিয়ে এমন একটি অনন্য সাউন্ডস্কেপ তৈরি করা হয়েছে, যা পুরো সিনেমার আবহকে আরও উদ্দীপ্ত করে। উত্তেজনার প্রতিটি মুহূর্তে সঙ্গীত গল্পের চাপ বাড়িয়ে তোলে, যা দর্শককে দৃশ্যের গভীরে টেনে নেয়ার কাজ করে
যদিও সিনেমাটি ১৯৯৯ থেকে ২০০৮ সময়সীমার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি, কিছু প্রোডাকশন ডিজাইন দেখতে বেশ আধুনিক এবং জেনেরিক মনে হয়। কয়েকটি লোকেশন ও কস্টিউম সময়কাল অনুযায়ী পুরোপুরি ফিট হয়নি। এটি সিনেমার বিশাল স্কেলে খুব বড় সমস্যা না হলেও মনোযোগী দর্শকের নজর এড়ায় না।
সহ–অভিনয় শিল্পীদের পারফরম্যান্স গল্পকে আরও শক্তিশালী করে
রণবীরের সঙ্গে আর. মাধবনের চরিত্র অজয় সান্যাল, অর্থাৎ ‘Dhurandhar’-এর মস্তিষ্ক—পুরো মিশনের আবেগ ও গভীরতা বাড়িয়েছে। সঞ্জয় দত্তের চরিত্রে গ্রে শেড, অক্ষয় খান্নার ঠাণ্ডা মাথার চতুরতা এবং অর্জুন রামপালের ভয়ংকর উপস্থিতি সিনেমার প্রতিটি মুহূর্তকে আরও ঘনীভূত করে তোলে। রাকেশ বেদি, ড্যানিশ পান্ডোর এবং সারা অর্জুন নিজেদের জায়গায় গল্পে প্রয়োজনীয় ভারসাম্য এনেছেন
উরি’–র আবেগের প্রতিধ্বনি—তবুও আরও অন্ধকার ও বাস্তব
পরিচালক আদিত্য ধর ‘উরি’ সিনেমার দেশাত্মবোধক আবেগকে এখানে নতুনভাবে প্রয়োগ করেছেন, তবে ‘Dhurandhar’ অনেক বেশি বাস্তব, বেশি নির্মম এবং অনেক গভীর দিক তুলে ধরে। এই সিনেমায় হিংসা, ভয়, অনিশ্চয়তা এবং মানসিক চাপ এমনভাবে দেখানো হয়েছে যা দর্শককে সহজে ভুলতে দেবে না
‘Dhurandhar’ শক্তিশালী গল্প, দুর্দান্ত অভিনয় ও গভীর নির্মাণের জন্য অবশ্যই দেখার মতো দীর্ঘ রানটাইম বা কিছু cliché সংলাপ থাকা সত্ত্বেও ‘ধুরন্ধর’ তার বিশাল গল্প, রণবীর সিংয়ের অসাধারণ অভিনয়, তীব্র অ্যাকশন এবং করাচির অপরাধ জগতের অন্ধকার বাস্তবতা তুলে ধরার জন্য ২০২৫ সালের সেরা থ্রিলারগুলোর মধ্যে জায়গা করে নেবে। যারা অ্যাকশন, আন্ডারওয়ার্ল্ড, গুপ্তচর থ্রিলার এবং বাস্তব ঘটনার অনুপ্রেরণায় তৈরি সিনেমা পছন্দ করেন—তাদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে এক অনন্য অভিজ্ঞতা

1 comment