রোহিত–কোহলির বিস্ফোরণ: ICC ODI র্যাঙ্কিংয়ে ভারতীয় রাজত্ব – ভক্তদের জন্য বড় সুখবর
২০২৫ সাল ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য বিশেষ এক বছর হয়ে থাকছে। কারণ বছরের শেষ দিকে এসে আবারও আধিপত্য বিস্তার করলেন ভারতীয় ব্যাটিংয়ের দুই স্তম্ভ—রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলি। সদ্য প্রকাশিত ICC ODI র্যাঙ্কিংয়ে রোহিত ধরে রেখেছেন বিশ্বের এক নম্বর স্থানে, আর কোহলি উঠে এসেছেন দুই নম্বরে। দুই কিংবদন্তির মধ্যে মাত্র ৮ রেটিং পয়েন্টের ব্যবধান এখন বিশ্ব ক্রিকেটের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু
২০২৫ সালের ওডিআই ক্রিকেটে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপকে সবচেয়ে বেশি স্থিতি ও শক্তি দিয়েছে দুই কিংবদন্তি—বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা। পুরো মৌসুম জুড়ে দু’জনেই একে অপরকে টেক্কা দিয়ে সামনে এগিয়েছেন। রান সংগ্রহের দিক থেকে তারা এতটাই কাছাকাছি ছিলেন যে দর্শকরাও প্রতিটি ম্যাচে নতুন উত্তেজনার স্বাদ পেয়েছেন। বছরের শেষে এসে দেখা যাচ্ছে, কোহলি ৬৫১ রান এবং রোহিত ৬৫০ রান করে ভারতের হয় সর্বোচ্চ দুই রান সংগ্রাহকের তালিকায় শীর্ষ দুই স্থান দখল করেছেন।
এই ধরনের হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা বহুদিন ভারতীয় ক্রিকেটে দেখা যায়নি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের সাম্প্রতিক ICC ওডিআই সিরিজে দুই তারকাই অসাধারণ ব্যাটিং প্রদর্শন করেছেন। রোহিত তাঁর স্বাভাবিক শান্ত, পরিণত ব্যাটিং দিয়ে প্রতিটি ম্যাচে দলকে শক্ত ভিত দিয়েছেন এবং সেই ধারাবাহিকতার কারণেই তিনি নিজের বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ১ নম্বর অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। অন্যদিকে, বিরাট কোহলি যেন নতুন উদ্যমে মাঠে নেমেছিলেন—তার ব্যাট থেকে এসেছে ধারাবাহিক চার-ছক্কার পাশাপাশি শতরানের ঝড়, যা আবারও প্রমাণ করেছে যে তিনি এখনো বিশ্বের অন্যতম সেরা ওয়ানডে ব্যাটার
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওডিআই সিরিজে বিরাট কোহলি এমন এক ব্যাটিং ছন্দে ছিলেন, যা অনেক দিন ক্রিকেটপ্রেমীরা দেখেননি। তিন ম্যাচ মিলিয়ে তার ব্যাট থেকে এসেছে ৩০২ রান, যার মধ্যে ছিল চমকে দেওয়ার মতো দুটি সেঞ্চুরি এবং একটি অর্ধশতক। প্রতিটি ইনিংসেই তিনি অনবদ্য নিয়ন্ত্রণ, শট সিলেকশন ও ম্যাচ সচেতনতার পরিচয় দিয়েছেন। সিরিজে তার আধিপত্য এতটাই প্রবল ছিল যে, স্বাভাবিকভাবেই তিনি অর্জন করেন ‘প্লেয়ার অফ দ্য সিরিজ’ পুরস্কার। আরও বড় কথা—এই সিরিজেই কোহলির সামনে ছিল বিশ্বের নম্বর ১ ব্যাটার হওয়ার সুযোগ। শেষ ম্যাচে রোহিতের চেয়ে মাত্র ৫০ রান বেশি করলেই তিনি নতুন শীর্ষস্থানীয় ব্যাটার হতে পারতেন। অর্থাৎ, কোহলির অসাধারণ ফর্মই তাকে র্যাঙ্কিংয়ের প্রায় দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে
সিরিজ শেষে ICC সদ্য প্রকাশিত র্যাঙ্কিংয়ে দেখা গেছে এক আকর্ষণীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বর্তমানে শীর্ষে থাকা রোহিত শর্মা আছেন ৭৮১ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে। তার ঠিক পিছনে খুব কাছাকাছি অবস্থান করছেন বিরাট কোহলি, যার পয়েন্ট ৭৭৩। অর্থাৎ, দুই ভারতীয় কিংবদন্তির মাঝে পার্থক্য মাত্র আট পয়েন্ট—যা যেকোনো সিরিজে মুহূর্তেই বদলে যেতে পারে।
রোহিত ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়ে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন, এবং প্রমাণ করেছেন কেন তিনি এখনও বিশ্বের অন্যতম সেরা ওয়ানডে ব্যাটার। অন্যদিকে কোহলির এই দ্রুত উত্থান আবারও মনে করিয়ে দেয় তার চরম ব্যাটিং দক্ষতার কথা। উল্লেখযোগ্য যে, ২০২১ সালে বাবর আজমের কাছে শীর্ষস্থান হারানোর পর এই প্রথমবার কোহলি আবার নাম্বার ১ হওয়ার এত কাছাকাছি এলেন। চার বছরের অপেক্ষার পর এবার তিনি আরও একবার ইতিহাস স্পর্শ করার দ্বারপ্রান্তে
ভারতীয় ক্রিকেট শুধু কোহলি ও রোহিতেই সীমাবদ্ধ নয়—র্যাঙ্কিংয়ের সর্বশেষ তালিকায় দলের আরও কয়েকজন ক্রিকেটারের উন্নতি চোখে পড়ার মতো। ব্যাটিং বিভাগে কে এল রাহুল দারুণ ধারাবাহিকতা দেখিয়ে দুই ধাপ উপরে উঠে এখন ১২ নম্বরে অবস্থান করছেন। তার পারফরম্যান্সে ভারতের মধ্যক্রম আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং এটি দলের সামগ্রিক ব্যাটিং গভীরতাকে বাড়িয়েছে। অন্যদিকে, শুভমন গিল যদিও দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে ইনজুরির কারণে খেলতে পারেননি, তবুও তার পঞ্চম স্থান অপরিবর্তিত রয়েছে—যা ইঙ্গিত দেয় যে তার পূর্ববর্তী পারফরম্যান্স কতটা দৃঢ় ছিল।
বোলিং বিভাগেও ভারতের সাফল্য উল্লেখযোগ্য। কুলদীপ যাদব স্পিন বিভাগে অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ ও বৈচিত্র্যের প্রদর্শন করে তিন ধাপ এগিয়ে এখন বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ৩ নম্বরে জায়গা করে নিয়েছেন। সাম্প্রতিক সিরিজগুলোতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু এনে দিয়ে দলের ম্যাচ জয়ের পথ তৈরি করেছেন। তার বোলিংয়ের ধারাবাহিকতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতীয় স্পিন আক্রমণের শক্তিকে আরও দৃঢ় করছে।
টি–২০ র্যাঙ্কিংয়েও ভারতীয় খেলোয়াড়দের উন্নতি চোখে পড়ে। অক্ষর প্যাটেল তার অলরাউন্ড দক্ষতার প্রভাব দেখিয়ে ১৩ নম্বরে অবস্থান করছেন। তিনি শুধু বলেই নয়, ব্যাটেও দলকে প্রয়োজনীয় অবদান দিচ্ছেন। অর্শদীপ সিং ধীর গতিতেও কার্যকর সুইং এবং ডেথ ওভারে নিখুঁত ইয়র্কার দিয়ে ২০ নম্বরে উঠে এসেছেন। তার উন্নতিতে ভারতের টি–২০ বোলিং আক্রমণ আরও শাণিত হয়েছে। জসপ্রীত বুমরাহ, যিনি সবসময় ভারতের বোলিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ, তিনিও উন্নতি করে এখন ২৫ নম্বরে অবস্থান করছেন—ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে ইনজুরি কাটিয়ে তিনি আবারও তার পুরোনো ছন্দ ফিরে পাচ্ছেন।
সামগ্রিকভাবে দেখা যায়, ভারতের একাধিক তারকা একসঙ্গে ফর্মে থাকায় আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে দেশটির আধিপত্য আরও দৃঢ় হচ্ছে। ব্যাটিং, বোলিং এবং টি–২০—সব বিভাগেই ভারতের ধারাবাহিক উন্নতি সামনে আসন্ন সিরিজগুলোতে দলকে আরও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গড়ে তুলবে
ভারত আগামী ১১ জানুয়ারি থেকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের হোম ওডিআই সিরিজ খেলতে নামছে, আর এই সিরিজকে ঘিরে উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। বিশেষ করে রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির মধ্যে বিশ্ব এক নম্বর ব্যাটারের লড়াই এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ভক্তদের চোখ এখন শুধু এই দুই মহাতারকার দিকেই। সিরিজটি শুরুর আগেই বহু সমর্থক প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন— “এইবার কি কোহলি এক নম্বরে ফিরতে পারবেন?” আবার অন্যপক্ষে অনেকে দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে বলছেন— “রোহিতই ধরে রাখবেন তাঁর সিংহাসন।”
এই দ্বন্দ্বটা শুধু দু’জন ব্যাটারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ভারতীয় ক্রিকেটের এক নতুন ইতিহাস গড়ার সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। একদিকে কোহলি তাঁর ফর্ম ও ধারাবাহিকতায় প্রমাণ করেছেন যে তিনি এখনও বিশ্বের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটার; অন্যদিকে রোহিত তাঁর অভিজ্ঞতা ও ম্যাচ-উইনিং পারফরম্যান্স দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছেন, কেন তিনি এখনও ওয়ানডে ফরম্যাটের রাজা। এই দুই কিংবদন্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু ভারতীয় দর্শকদেরই নয়, বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের কোটি ক্রিকেটভক্তদের মাঝেও সমান উত্তেজনা তৈরি করেছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ১১ জানুয়ারির সিরিজটা শুধু একটি সাধারণ ক্রিকেট সিরিজ নয়—এটি হতে চলেছে দুই কিংবদন্তির মহারণ, যেখানে প্রতিটি রান, প্রতিটি ইনিংস নির্ধারণ করবে বিশ্ব এক নম্বরের সিংহাসন কার দখলে থাকবে। ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য নিঃসন্দেহে এটি এক রোমাঞ্চকর সময়, যেখানে ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লেখার অপেক্ষায় রয়েছে গোটা এশিয়া
